হোম পৃষ্ঠা / সংবাদ / নাট্যগুরু শাহ্ ফরহাদ : এক নক্ষত্রের বিদায়

নাট্যগুরু শাহ্ ফরহাদ : এক নক্ষত্রের বিদায়

জানুয়ারি ১৯, ২০১৪ সাল। সারাদিন আমার মন খারাপ ছিলো। ঠিক এক বছর আগে ২০১৩ সালের এই দিনে আমার মাতৃ বিয়োগ হয়। এক ধরনের অস্থিরতার মধ্যে সময় পার করছিলাম সারাদিন। বিকেল গড়িয়ে যখন সন্ধ্যা হল নাটকের মোহড়া দিতে বাসা থেকে বের হলাম।

সৌদামিনী মালো নাটকের মোহড়া চলছে। জেলা শিল্পকলা রেপাটর্রি থিয়েটার দল থেকে ঢাকায় জাতীয় নাট্য উৎসবের জন্য নাটকটি মোহড়া চলছিলো। রচনা ড: শওকত ওসমান নাট্য রুপ ও নির্দেশনা দিচ্ছিলেন নাট্যজন শাহ্ ফরহাদ। তাঁর পুরো নাম ছিলো শামসুদ্দিন চৌধুরী ফরহাদ।

আমি বাসা থেকে বের হলাম শিল্পকলার উদ্দেশ্যে, সেখানে আমাদের মোহড়া চলছে। প্রতিদিনের অভ্যাসবশত ফরহাদ ভাইকে মোবাইলে কল দিলাম বাসা থেকে বের হয়েই। কিন্তু ওপাশ থেকে ধরছিল না। বার বার কল করে যাচ্ছি কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ নেই। ভাবলাম শিল্পকলায় চলে যাই সবাইকে হয়তো এক সাথে পেয়ে যাবো।

মোবাইল টা বেজে উঠলো। নাটকের একটা ছেলে ওপাশ থেকে বলছে ফরহাদ ভাইয়ের বাসায় ভেতর থেকে বন্ধ কেউ দরজা খুলছে না। মোবাইল বাজছে শুনা যায়।

কি এক অজানা আশংকায় আমার বুক কেঁপে উঠলো। আমি শিল্পকলায় যাওয়ার বদলে হাউজ বিল্ডিং এর পথে রওনা হলাম। হাউজ বিল্ডিং এর বাসায় ফরহাদ ভাই একাই থাকতেন। ফ্যামিলি থাকতো ঢাকায়। শুধু নাটকের টানে সব আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে এই জেলা শহরে পড়ে থাকতেন তিনি।

বুকের ধুকধুক অওয়াজ নিয়ে হাউজ বিল্ডিং এর বাসায় উপস্থিত হলাম। আমাদের নাটকের কিছু ছেলেমেয়ে বাসার সামনের দাঁড়িয়ে আছে। সবার মুখে আতংকের ছাপ। আমাকে দেখে সবাই ঘিরে ধরলো। বিকেল থেকে দরজা নক করে যাচ্ছে কিন্তু খুলছে না।

আমরা সবাই মিলে অনেক চেস্টা করে যখন কোনো সাড়া শব্দ পেলাম না তখন একজনকে পাঠিয়ে থানা থেকে পুলিশ খবর দিয়ে আনালাম।

পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলো আমরাও গেলাম পিছে পিছে। দেখলাম ফরহাদ ভাই বিছানায় শুয়ে আছে গায়ে কম্বল দেয়া। পরীক্ষা করে বুঝতে পারলাম তিনি মৃত। কিন্তু মনে হচ্ছিল যেন ঘুমাচ্ছেন।

আমরা সবাই যেন ঘোরের মধ্যে ছিলাম। আমার কাছে মনে হচ্ছিল এ এক নাটকের দৃশ্য কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি জেগে উঠবেন।

মানুষ মারা যাবে এটাকে কেউ এড়িয়ে যেতে পারবে না।
কিন্তু কিছু মৃত্যুর ক্ষতি অপূরণীয়। এ ক্ষতি কখনই পুরন হয় না। এখনো এমন কোনো দিন নেই যে ফরহাদ ভাইয়ের অভাব অনুভব করি না। তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তার সাথে সাথে সেই প্রতিষ্ঠানটিও শেষ।

ফরহাদ ভাই আমার নাটকের গুরু। তাঁর সাথে কাজ করে আমি নিজেও অনেক সমৃদ্ধ হয়েছি। তিনি শত শত নাট্য কর্মী সৃষ্টি করেছেন। অনেক গুলো নাট্য দল গড়তে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিলো। তাঁর চলে যাওয়া ছিলো নক্ষত্র ঝরে পড়ার মত। হয়তো আকাশের নক্ষত্র হয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন চিরকাল।

শামস্ আলী ডিউ
নাট্যকর্মী ও আবৃত্তি কর্মী

সম্পর্কে Mizan Rahman

নোয়াখালী আমাকে কি দিয়েছে সেটা চিন্তা করি না, নোয়াখালীকে আমি কি দিতে পারবো তাই চিন্তা করি।

Check Also

নোয়াখালী পেইজের উদ্যোগে ফলদ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি পালিত

সবুজে ঘেরা আমাদের বাংলাদেশ ভরে উঠুক কানায় কানায় এই প্রত্যাশায় বৃহত্তর নোয়াখালীর সর্ববৃহৎ অনলাইন এক্টিভিস্ট …

Leave a Reply