হোম পৃষ্ঠা / সমসাময়িক / আসলে আমরা যা চর্চা করব তাই হবে ভালোবাসা দিবসের মূল বিষয়।

আসলে আমরা যা চর্চা করব তাই হবে ভালোবাসা দিবসের মূল বিষয়।

সংস্কৃতি পরির্তনশীল।বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে এসে এই পরিবর্তন খুব দ্রুত ঘটছে।মানুষ খুব সহজেই অন্য কোনো অচেনা দেশের সংস্কৃতিকে নিজের মধ্যে চর্চা করা শুরু করছে।বিশেষ করে তরুনরা নতুন কিছু দেখলেই চায় সেটা নিজের মধ্যে দেখাতে। এজন্য অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোই বেশী দায়ী। মানুষ যখন দেখে তার বন্ধু নতুন কিছু করছে তারাও চায় নতুত্ব আনতে।অল্পতে জনপ্রিয় হওয়ার সামগ্রীক চেষ্টা চালিয়ে যায়। ২০১৪ সালে বিশ্ব ব্যাপি ছড়িয়ে পড়া আইস বাকেট চ্যালেঞ্জ এর একটা জ্বলন্ত উদাহরণ।সেটা আমাদের দেশে এসে রাইস বাকেট চ্যালেঞ্জ হয়ে গেল এবং খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ল।‘আইস বাকেট’ চ্যালেঞ্জের মতো ‘রাইস বাকেট’ চ্যালেঞ্জের উদ্দেশ্যটাও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কিছু করা। তবে এক্ষেত্রে বরফের জায়গায় ব্যবহূত হবে চাল। একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে এক বালতি বা এক প্যাকেট চাল দিয়ে সেই ছবি ফেসবুকে আপলোড করে আরো সাত বা ১০ জনকে ট্যাগ করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে হবে। এটা মোটামুটি বেশ কয়দিন সাড়া ফেলেছিল।

ভালোবাসা দিবস কে কেন্দ্র করে আজ কয়েকটা গ্রুপ দেখা যাচ্ছে। তাদের কেউ ভালোবাসা দিবসের পক্ষে মত দিচ্ছে কেউবা এর বিপক্ষে। যারা সিঙ্গেল তারা মোটামুটি এই দিনে কাপলদের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করার মত অবস্থা!!!

রিয়েলিটি ভিন্ন! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন মানুষ নিজেকে যেভাবে উপস্থাপন করে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সে বাস্তব জীবনে করে ঠিক তার উল্টো। আমার পরিচিত এক ফার্মেসির লোক আছে ।যাকে দেখেছি ভালোবাসা দিবসের বিপক্ষে ফেসবুকে শেয়ার দিতে দিতে তুলো ধুনা করে ফেলছে। এইটা দোষের নয়। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় সে শেয়ার বা মত দিচ্ছে যা বাস্তব জীবনে সে পুরো উল্টো করে। মজার ব্যাপারটা হলো তার বন্ধু বান্ধব ডেটিং এর আগে তার কাছ থেকে টিপস ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যায়! আহা কি সুন্দর সুন্দর টিপস!! কত ধরনের জিনিসপত্র দিয়ে বন্ধুদের উপকার করছে!! একবারও বলেনি দোস্ত এইটা খারাপ, এইটা ভালো না। তখন ভাই অনুভূতি কই থাকে? কোনো কোনো আবাল প্যাচাল করেবন এইটা তার ব্যবসা। ভাই যুক্তির খাতিরে যদি বলতে হয় তাহলে বলা যায় এই দিনে কাপলরা যদি হোটেলে যায় সেটা হোটেলের ব্যবসা, ফুল কিনলে ফুল বিক্রেতার ব্যবসা, রিক্সা ঘুরলে রিক্সাওয়ালার উপরি ইনকাম ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি নোংরামির সম্পূর্ন বিপক্ষে। তবে দেখুন আমরা সবসময় নেগেটিভ জিনিসটার প্রতি আকৃষ্ট হই বেশী। যেমন দরুন- ক্লোজ আপ এর রিক্সা রাইড!এই নিয়ে চলেছে বিস্তর পাল্টাপাল্টি মতামত।  মুলত এই জিনিসটাকে আমরা আরো বেশী মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি আমাদের শেয়ার বা এইটা নিয়ে কথা বলার মাধ্যমে। অথচ দেখুন ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে অনেক সংগঠন পথশিশুদের জন্য কিছু করার ইভেন্ট খুলেছে, কেউ বা হত দরিদ্র মানুষদের সহযোগিতা করে ভালোবাসা দিবস উদযাপন করতে ইভেন্ট খুলেছে। আমরা কয়জন সেসবের বিষয়ে কথা বলেছি। কয়জনেই বা শেয়ার দিয়েছি। আসল কথা হলো আমরা আসল কাজটা না করে অকাজ নিয়ে বেশী মাতামাতি করি। আজ যদি আমরা প্রকাশ্যে রিক্সা রাইড ইভেন্ট নিয়ে এতো না ভেবে প্রত্যেকে ভালো একটা কাজ করে তার ছবি আপলোড দেওয়ার ইভেন্ট করতাম আর সবাই সেটা নিয়েই আলোচনা করতাম তাহলে কি ভাই এইসব রিক্সা রাইড ইভেন্ট সামনে আসত?

আসলে আমরা তা করব না! আরে ভাই বুঝতে হবে ভালোবাসা শুধু প্রেমিক প্রেমিকার প্রতি হয় না। ভালোবাসা হতে পারে মা-বাবার প্রতি সন্তানের , ভালোবাসা হতে পারে সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের, ভালোবাসা হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, ভালোবাসা হতে পারে ভাইয়ের প্রতি বোনের, বোনের প্রতি ভাইয়ের, ভালোবাসা হতে পারে অসহায় মানুষের প্রতি, ভালোবাসা হতে পারে প্রকৃতির প্রতি।

আসলে আমরা যা চর্চা করব, যা রীতি করব তাই হবে ভালোবাসা দিবসের মূল বিষয়। আমরা যদি রিক্সা রাইড নিয়ে কথা বেশী বলি তা কমবে বলে মনে হয় না বরং বাড়বে। হয়ত যে প্রকাশ্যে ঘুরবে বলেছে তা প্রকাশ্যে না করে আড়ালে করবে।

আপনি যা করছেন তা দেখে আপনার বন্ধু অনুপ্রাণিত হবে, আপনার অনুজ’রা অনুপ্রাণিত হবে। তাই ভালোবাসা দিবসে বাবা-মায়ের অবাধ্য ছেলেটা বলুক আমি তাদের ভালোবাসি আর তাদের অবাধ্য হব না। ভালোবাসা দিবসে পরকীয়া জড়ানো স্বামী বলুক আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি তাকে নিয়ে সুখে থাকতে চাই। স্ত্রীও ফিরে আসুক তার স্বামীর আলিঙ্গনে! ভালোবাসা দিবসে বখাটে ছেলেটা বলুক আমি আর বখাটিপনা করব না, এই দিনে দেশাদ্রোহী বলুক আমি দেশকে ভালোবাসব, ঘুষ খাওয়া কর্মকর্তাটা বলুক- দেশ আমার মা, আমি দেশকে ভালোবাসে আর ঘুষ খাব না। ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসা জন্মাক সকল সৃষ্টির প্রতি, ভালোবাসা জন্মাক মানুষের মানুষের প্রতি, প্রকৃতির প্রতি।

সবাইকে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা।

@ মুহাম্মদ মাঈনুদ্দিন

সম্পর্কে Main Uddin

Check Also

রৌশন বাণী’র ডাকে ধংসের মুখে যুবসমাজ

বর্তমানে নোয়াখালীর একমাত্র সিনেমা হল হলো রৌশন বানী। যা সিনেমা হলের ঐতিহ্য বহন করছে, এবং …

Leave a Reply