হোম পৃষ্ঠা / ইতিহাস

ইতিহাস

আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

নয়মাস মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর উনিশশত বাহাত্তর সালের এই দিনে লন্ডন দিল্লী হয়ে দেশে ফিরে আসেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।বাঙালিকে পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত করে একটি স্বাধীনদেশ এনে দেওয়ার লড়াইয়ে এ মহানায়কের দেশে ফেরা একটি অনন্যক্ষন।দিবসটি উৎযাপনে নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংঘটন।দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্রী পৃথক বানী দিয়েছেন।
পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর লন্ডন ও দিল্লী হয়ে দশই জানুয়ারী দুপুর একটা একচল্লিশ মিনিটে স্বাধীন দেশের মাটিতে পা রাখেন তিনি।
এদিন রাজধানীর তেজগাও এর বিমানবন্দর থেকে ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বার বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পর্যন্ত ছিল মানুষের ঢল।জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু,তুমি কে,আমি কে,বাঙালি বাঙালি,তোমার আমার ঠিকানা ,পদ্ধা মেঘনা যমুনা এসব স্লোগানে প্রকম্পিত হয় রাজধানী।স্বাধীন দেশে পা রেখে বঙ্গবন্ধু আবেগে আপ্লুতো হয়ে পড়েন।তার চোখে ছিল পানি।
জননন্দিত শেখ মুজিবুর রহমান সোহরার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে বলেন,যে মাটিকে আমি এত ভালবাসি,যে মানুষকে আমি এত ভালবাসি,আমি জানতামনা সে মাটিতে আমি আবার যেতে পারবো কিনা।আজ আমি আমার বাংলায় ফিরে এসেছি,বাংলার ভাইদের কাছে,বোনদের কাছে,মায়েদের কাছে।বাংলা আজ স্বাধীন,বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।

ছবিঃসংগৃহীত।

নোয়াখালীতে সুবর্ণ পৌষ ও পিঠা উৎসব ১৪২৪ পালিত

” পৌষ মাসে পিঠাপুলির মহা ধুমদাম
ঘরে ঘরে পিঠা বানাই, ধন্য পল্লীগ্রাম ”
শ্লোগানে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় দিনব্যাপী ‘সুবর্ণ পৌষ ও পিঠা উৎসব ১৪২৪’
অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের যৌথ সহোযোগীতায় নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সৈকত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠ সংলগ্ন সুবর্ণ বটমূলে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত পীঠা প্রেমীদের নিয়ে মেলায় ভিন্ন ভিন্ন স্টলের আয়োজন করে সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন।

এতে আয়োজকরা বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে নানা রঙের কারুকার্যে ভরা শীতকালীন পিঠাকে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনার্থী, আমন্ত্রিত মেহমানবৃন্দ ও সামাজিক সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিবর্গরা মেলার স্টল গুলো ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন।

উক্ত মেলায় চরবাটা খাসের হাট উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী মোশাররফ উচ্চ বিদ্যালয়, লর্ড লিওনার্ড শেচায়ার উচ্চবিদ্যালয়, উজ্জীবিত পোগ্রাম সাগরিকা, রংধনু গ্রুপ, চরবাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে, চরবাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় , পুর্ব চরবাটা স্কুল এন্ড কলেজ, সৈকত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ বিশটির মতো পিঠার স্টল ও একটি স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প অংশ নেন। স্বাস্থ্য সেবায় বিনামূল্যে ওজন মাপা, ব্লাড গ্রুপিং ও ব্লাড পেসার চেকআপ করা হয়।

মেলায় আয়োজকরা শিশু কিশোরদের মনমাতানো বাংলা গান, শিশুদের জন্য নৃত্য, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা, দড়ি টানাটানি, চোখ বেঁধে হাড়ি ভাঙা সহ বিভিন্ন খেলার আয়োজন করে।

উক্ত সুবর্ণ পৌষ মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু ওয়াদুদ, বিশেষ অতিথি পিকেএসএফ এর উপব্যবস্থাপক আব্দুল কাইয়ুম ও সুবর্ণ চর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এড ওমর ফারুক, সৈকত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোনায়েম খান সহ বিভিন্ন সাংবাদিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

পরে মেলা ও খেলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সম্মানী পুরস্কার তুলে দেন মেহমানবৃন্দ।

‘নোয়াখালি’ অঞ্চলের মানুষরা হাজার বছরের ভাঙ্গা গড়ার সাথে লড়াই করে টিকে আছে

‘নোয়াখালি’ অঞ্চলের মানুষরা হাজার বছরের ভাঙ্গা গড়ার সাথে লড়াই করে টিকে আছে। সেই পুরোনো শহর এখন আর নেই ব্রিটিশ পিরিয়ডেই তা নদী গর্ভে তলিয়ে যায়। তারপর এতোদিনে আবার গড়েছে সব নতুন করে। দক্ষিনে জেগেছে প্রায় ৬০/৭০ মাইল এর বেশী ভূমি।

আমাদের বেড়ে ওঠা এই এক রাস্তার শহরেই। কি যে সাজানো গোছান ছিল সব। কি যে ভাল ছিল চারদিকের পরিবেশ। যে আসতো ঘরবাড়ি করে থেকে যেত। শিল্প সংস্কৃতি শিক্ষা চর্চার একটা গুপ্তস্থান ছিল যেন এটা। নিশ্চিন্তে চলাচলের আধার ছিল। ছিল মানুষ গড়ার উত্তম আবহাওয়া। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি, মাদক, রাহাজানী এই সব কেউ চিনতোও না পর্যন্ত।

কতো কি যে হতো। গ্ল্যামার ছিলনা কিন্তু রমরমা শীতল ভালবাসার গন্ধ ছিল। উজ্জ্বল সূর্যের আলোর ছটায় যেন ভেসে বেড়াতো উদ্দীপ্ত চকচকে চোখের কিশোর তরুনেরা। পাড়ায় পাড়ায় পাঠাগার ছিল। স্বচ্ছপানির শতবর্ষি পুকুর ছিল। স্কুল ছুটির পর রৌদ্রজ্জ্বল দুপুরে নারকেল, আম, বাদাম সহ আরো নানা রকম গাছে ঘেরা পুকুরে দাপাদাপি আর ঝিনুক খোঁজার নেশা ছিল।

মঞ্চে শিশুতোষ নাটক এর মায়াচ্ছন্ন এক আচ্ছন্নতা ছিল। গান, আবৃত্তি, কুইজ, বিতর্ক এগুলোর প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় ঘুম হারিয়ে যাওয়ার অবস্থা ছিল। কলকল, কুহু কুহু, ঝিঁ ঝিঁ ডাক ছিল। বিজয় মেলায় বিজয়ের প্রফুল্ল আনন্দ ছিল। বিজয় মঞ্চে বিজয়ের চাপা উল্লাস ছিল।

সব যেন শক্তিশালী কোন এসিডে ঝলসে গেছে। চারদিকে যেন তরল দগ্ধতা। রাস্তায়, মানুষে, আশে পাশে সবটা জুড়েই তাই। কোন কিছু দেখার বা বলার কেউ নেই।

দাম নেই, মর্যাদা নেই, মূল্যায়ন নেই, প্রভাব নেই, অবস্থান নেই নিঃসার্থ কোন গূনীর, কোন সুশীলের। বছর বছর বিজয় এর মাস আসে। বিজয় মেলা হয়। হাজার লক্ষ মানুষ আসে। বড় বড় মানুষ জনেরা গলা নিঃসৃত অমিয় সুর ছেড়ে দেয় ইথারে।

আলাপ হয়না, কথা হয়না, ভাবা হয়না, চেতনা হয়না, উঠে আসেনা, তর্ক হয়না, বিতর্ক হয়না এই যেন এক ঘুমন্ত শহর।

Muaz Bin

বুক ফুলিয়ে চলি আমি নোয়াখালী পরিচয় দিয়ে দেশে বিদেশে

নোয়াখালী এবং নোয়াখালী বিভাগ !!!

কিছু মানুষ আছে নোয়াখালী সমন্ধে কিছু না জেনেও একটা বাজে মন্তব্য করে বসে। কিছু লোক এমনি এমনি নোয়াখালীর বিরুদ্ধে বিদ্রুপ ছড়ায়, এটা জাস্ট মানুষের থেকে শুনে শুনে।

আর বাস্তবতা হলো- বাংলাদেশের সবচেয়ে মিশুক এবং আপ্পায়ন প্রিয় বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার মানুষ।

তাছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে শুরু করে সরকারি বেসরকারি, সামরিক বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকত্তা বেশিরবাগ নোয়াখালীর এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার পিছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের, বিদেশ থেকে বড় অংকের রেমিট্যান্স আসে বৃহত্তর নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও ফেনী জেলার মানুষের হাত হয়ে। তাই এগুলি দেখে কিছু মানুষের হিংসে হয়।

কিন্তু খুব কষ্ট লাগে নোয়াখালীর এত খ্যাতিমান ব্যক্তি থাকতেও নোয়াখালীর আশানুরূপ উন্নয়ন হয় নি।

এই যে আমরা এখন বিভাগ বিভাগ করে চিল্লাচ্ছি, অথচ এই নোয়াখালীর অতিতের নেতাগুলি চাইলেই নোয়াখালী বিভাগ হয়ে যেত। আওয়মীলীগ বলেন বিএনপি বলেন।

তাই এখন নোয়াখালীর তরুণ তরুণীরা জেগে উঠেছে, আমাদের যেকোনো দাবি এখন আমাদেকে আদায় করে নিতে হবে। আমাদের নেতাদের উপর ভরসা করে বসে থাকলে হবে না। নোয়াখালী বিভাগ প্রশ্নে কোনো আপোষ নেই। আমরা আওয়ামীলীগ করি বা বিএনপি করি just leave it. আমাদের বৃহত্তর স্বার্থে আঘাত লাগলে এই নোয়াখালীবাসী চুপ থাকবে না। আর বিভাগ হলে এই নোয়াখালীর নামে হবে অন্যথায় বিভাগ চাই না। অন্য কোনো জেলার সাথে বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী বিভাগে যাবে না। অসম্ভব।

সবমিলিয়ে ধন্যবাদ সবাইকে, খুব বেশি ভালোবাসি এই দেশটাকে এই প্রাণের নোয়াখালীকে।
কে কি বলুক, I just don’t care. বুক ফুলিয়ে চলি আমি নোয়াখাইল্যা পরিচয় দিয়ে দেশে বিদেশে।

Abdullah Al Emran‎

আত্বহত্যা থেকে মনিকার বেঁচে যাওয়ার গল্প

ইলিয়াছ হিমেল :-
মনিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে সবে এক বছর হলো।কুয়েত-মৈত্রী হলে থাকে। এখন রুমে কেউ নেই। রুমের সবাই ক্লাশে চলে গেছে।নি:সঙ্গতায় হতাশা নাকি মায়া হয়ে ধরা দেয়।মনিকার মনের বিষন্নতা শুন্য রুমে খিলখিল করে হেসে উঠলো। দরজার হুকটা লাগিয়ে ফ্যানের সাথে ওড়না বেধে ফেললো মনিকা।সিদ্ধান্ত ফাইনাল,সে অাত্বহত্যা করবে।এ নিষ্ফল অার কলংকিত মুখ কাউকে দেখাবেনা।

মনটা ভাল নেই বলে সকালে ক্লাস থাকলেও মনিকা ক্লাসে যায়নি।ওয়াশরুম থেকে এসে ঢকঢক করে তিন গ্লাস পানি খেয়েছে।সারা রাত কেঁদেছে।স্মৃতির বিড়ম্বনায় একটুও ঘুমাতে পারেনি।সকালে টয়লেটে অনেক্ষণ থাকলেও কাজ হয়নি।মেজাজ খিটখিট হয়ে অাছে।মনে হচ্ছে পৃথীবিতে কেউ তার নয়,সে কারো নয়।
তবে সে বাঁচবে কেন?মনিকার মনের প্রশ্ন দীপ্তি জানালা দিয়ে খেয়াল করলো মনিকা ফ্যানের সাথে বাঁধা ওড়নার সাথে গলা পেঁচানোর চেষ্টা করছে।দীপ্তি স্বজোরে চিৎকার দিয়ে সবাইকে জড়ো করে ফেলল।হলের মামাদের চেষ্টায় খুব দ্রুত দরজা ভেঙ্গে দীপ্তি মনিকাকে জড়িয়ে ধরে টেনে নিচে নামালো।একজন মনিকা বেঁচে গেল।মনিকার চোখ বেয়ে ঘৃণার প্লাবন বইছে।সবাইকে রুম থেকে বের হতে বলে দীপ্তি মনিকাকে শান্তনা দিতে লাগলো।
-বিকেলে দীপ্তিকে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো মনিকা।অামি কি নিয়ে বাঁচবো,দীপ্তি?মনিকা জিজ্ঞস করে। -কেন,তোর কি নেই যে বাঁচার অবলম্বন খুঁজে পাচ্ছিসনা?দীপ্তি তাচ্ছিল্য ভাব নিয়ে জিজ্ঞেস করলো।
-বিপ্লব অামাকে বিয়ের কথা বলে অনেকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছে।ভালবাসার টানে অামার দেহ-প্রাণ সব ওর কাছে সপে দিয়েছি।কিন্তু এখন নাকি………বলতে বলতে মনিকার গলা ধরে এলো।
-দীপ্তি বোরকা গায়ে দিতে দিতে বলল “বিয়ে ছাড়া যৌন সঙ্গম করা পাপ,এটা তো ধর্মীয় চেতনা বা ধর্মীয় রুলস।কিন্তু ধর্মের কোথায় পেয়েছিস এরকম পাপ করলে সব শেষ হয়ে যাবে এবং সুইসাইড করলে পাপের প্রায়শ্চিত্য হবে?”
-কিন্তু,এ দেহ অার কার কাছে সমর্পণ করবো? তাকে কি ঠকানো হবেনা?আল্লাহ কি আমাকে ক্ষমা করবে? মনিকা বিষাদের সুরে জিজ্ঞেস করে।
-তুই যাকে বিয়ে করবি তাকে কি শুধু শারীরিক সম্পর্ক করার জন্যই বিয়ে করবি?অার ঐ একটা অঙ্গ ছাড়া কি তোর এত সুন্দর ব্যবহার,মেধা অার ভাল মনটার কোন মুল্য নেই?তোর সৃষ্টি কি শুধু এ একটা মাত্র উদ্দেশ্যেই সাধন করার জন্য হয়েছে ?একটা প্রতারক মানুষের জন্য তুই হেরে যাবি? দীপ্তি পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে।
-মনিকা ছোট বাচ্চার মত দীপ্তির দিকে উত্তরের অপেক্ষায় চেয়ে থাকে।
-একটা ছেলে তার লিঙ্গকে অপবিত্রভাবে ব্যবহার করেও বেঁচে থাকবে,অার তুই একা পাপের দায় বহন করবি?তোর জম্ম,মৃত্যু,রুপ-লাবন্য কোন জিনিসে বিপ্লবের হাত রয়েছে বল? দীপ্তি খুব কড়া ভাষায় মনিকাকে জিজ্ঞেস করে।

তোর লাশ সামনে নিয়ে তোর মায়ের বুক ফাঁটা কান্নাটা একবার কল্পনা করতো,অাল্লাহর এত সুন্দর দেহটা কিছু ডাক্তার কেটে টুকরো টুকরো করছে,অাগামী কালকের সব পত্রিকায় লাল অক্ষরে লেখা অাসবে “প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মনিকার অাত্বহত্যা” এই নোংরা স্মৃতিগুলো কল্পনা করে দেখতো?এসব কি তোকে মহান করবে??সতী-সাধবী নারী বলে সমাজে তোর নামে মাজার তৈরী হবে??দীপ্তি শাসনের সুরে মনিকাকে প্রশ্ন ছুঁড়ে।

মনিকা অঝরো কাঁদতে থাকে।সমস্ত পৃথীবি তার কাছে অন্ধকার লাগে।তবু দীপ্তির কথায় যেন তার সামনে টিমটিম করে আশার আলো উদয় হতে লাগলো।ঠিক তখন মসজিদ থেকে ভেসে অাসে “হাইয়্যা অালাল ফালাহ,”এসো, কল্যানের পথে এসো।
দীপ্তি মনিকার হাত ধরে বলে “চল,মাগরিবের নামাজ পড়ে অাল্লাহর কাছে প্রাণ খুলে ক্ষমা চেয়ে নে।তিনিই সর্বোৎকৃষ্ট বিচারক। সবাই তোকে নিয়ে বিরক্ত হলেও তিনি তোকে অবশ্যই ভালবাসবেন।কারন,তিনি অপরাধীর অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়াকে বডড ভালবাসেন।
অযু করে মনিকা নামাজে দাঁড়িয়ে


পড়লো………… “ইহদিনাছ ছিরাতাল মোস্তাকিম”।হে অাল্লাহ,অামাকে সহজ সরল পথ দেখাও। “গায়রিল মাগদুবি অালাইহিম”ঐ পথ নয় যে পথে গিয়েছে অভিশপ্তরা”।
মনিকা যেন হারতে হারতে আবার নিজেকে খুঁজে পেয়েছে।ঠিক যেন আল মাহমুদের সেই কবতিার বইয়ের ,মত “তোমাকে হারিয়ে কুঁড়িয়ে পেয়েছি “।মনিকা যেন তাকে আবার নতুন এক মসৃণ ও সুন্দর জীবনে আবিস্কার করলো। নামাজ শেষে দীপ্তির কোলে মাথা রেখে মনিকা বলল “এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তোর মত দীপ্তির বড়ই প্রয়োজন”।

(বি:দ্র:-নাম,ঠিকানা সম্পূর্ণ কাল্পনিক।দিকভ্রান্ত অামার বোনগুলোর অাত্বহত্যায় ব্যথিত হৃদয়ে লেখাটা লিখলাম।যদি একটি প্রাণও বেঁচে যায় সেই কামনা

শিক্ষার্থী,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নোয়াখালী খালীই রইলো : ফায়দা ফেল পুরো দেশ

বাংলাদেশের দক্ষিণে মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি সুপ্রাচীন জনপদ নোয়াখালী জেলা। জেলার আয়তন ৪২০২.৭০ বর্গ কিঃমিঃ। এর উত্তরে কুমিল্লা জেলা, দক্ষিণে মেঘনার মোহনা এবং বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ফেনী এবং চট্টগ্রাম জেলা, পশ্চিমে লক্ষ্মীপুর এবং ভোলা জেলা। চাটখিল, সেনবাগ, সোনাইমুড়ী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী সদর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, সুবর্ণচর, হাতিয়া এই ৯টি উপজেলা নিয়ে নোয়াখালী জেলা গঠিত। এ জেলার মোট জনসংখ্যা ৩৩,৭০,২৫১ জন । কৃষি, মৎস্য শিকার ও পশু পালন এ অঞ্চলের প্রধান জীবিকা। কবিতার ভাষায় জেলাটিকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে- “ হাট বাজার নদী খাল, নারিকেল সুপারী তাল ভাঙা গড়ার চোরাবালি, তারই নাম নোয়াখালী ’’ ঐতিহ্যগতভাবে এ জেলার মানুষ কর্মঠ, বুদ্ধিমান ও সত্যানুসন্ধানী। ধর্মপ্রাণ এ জেলার লোকজন হিন্দু মুসলমান এক অনুসরণীয় ভ্রাতৃত্ববন্ধনে বসবাস করেন। অক্লান্ত পরিশ্রমী এই মানুষগুলোকে বিগত ১৭৭২ সাল থেকে অনবরত সেবা দিয়ে আসছে জেলা প্রশাসন। জেলার পটভূমি: নোয়াখালী জেলার মর্যাদা পায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক এদেশে জেলা প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় থেকেই। ১৭৭২ সালেকোম্পানীর গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এদেশে প্রথম আধুনিক জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রচেষ্টা নেন। তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে ১৯টি জেলায়বিভক্ত করে প্রতি জেলায় একজন করে কালেক্টর নিয়োগ করেন। এ ১৯টি জেলার একটি ছিল কলিন্দা। এ জেলাটি গঠিত হয়েছিল মূলতঃ নোয়াখালী অঞ্চলনিয়ে। কিন্ত ১৭৭৩ সালে জেলা প্রথা প্রত্যাহার করা হয় এবং প্রদেশ প্রথা প্রবর্তন করে জেলাগুলোকে করা হয় প্রদেশের অধীনস্থ অফিস। ১৭৮৭ সালে পুনরায় জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং এবার সমগ্র বাংলাদেশকে ১৪টি জেলায় ভাগ করা হয়। এ ১৪ টির মধ্যেও ভুলুয়া নামেনোয়াখালী অঞ্চলে একটি জেলা ছিল। পরে ১৭৯২ সালে ত্রিপুরা নামে একটি নতুন জেলা সৃষ্টি করে ভুলুয়াকে এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ১৮২১ সালে ভুলুয়া নামেনোয়াখালী জেলা প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত এ অঞ্চল ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভূক্ত ছিল। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী মহকুমা নিয়ে নোয়াখালী জেলা গঠিত হয়। এটি চট্টগ্রাম বিভাগের অর্ন্তভূক্ত একটি বিশাল জেলা হিসেবে পরিচালনা হয়ে আসছিল। ১৯৮৩ সালে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হলে লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলা আলাদা হয়ে যায়। শুধুমাত্র নোয়াখালী মহকুমা নিয়ে নোয়াখালী জেলা পুনর্গঠিত হয়। তখন এ জেলায় উপজেলা ছিল ছয়টি। পরবর্তীতে আরো তিনটি উপজেলার সৃষ্টি করা হয়। এবং বর্তমানে জেলায় মোট উপজেলার সংখ্যা নয়টি। জেলার একটি বিশেষত্ব হলো আটটি উপজেলা মূল ভূখন্ডের সাথে রয়েছে। আর হাতিয়া নামক উপজেলাটির কিছু অংশ জেলার মূল ভূখন্ডের সাথে সংযুক্ত থাকলে ও বৃহত্তর অংশ (মূল হাতিয়া) এর চর্তুদিকে মেঘনা নদী দ্বারা বেষ্টিত একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা। নোয়াখালী জেলার উত্তরে কুমিল্লা জেলা, দক্ষিণে মেঘনার মোহনা এবং বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ফেনী এবং চট্টগ্রাম জেলা, পশ্চিমে লক্ষ্মীপুর এবং ভোলা জেলা। নোয়াখালী জেলা সদর বর্তমানে যে জায়গায় অবস্থিত সে জায়গায় প্রথম থেকেই ছিল না। ঘন ঘন নদী ভাঙ্গনের ফলে পঞ্চাশের দশকে জেলার সদরকে বর্তমান জায়াগায় স্থানান্তর করা হয়। এবং স্থান্তরিত জায়গায় (বর্তমান জেলা সদর) প্রয়োজনীয় স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। পূর্বেকার জেলা সদরটি নদী ভাঙ্গনের ফলে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। খূব অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে চর জেগে উঠে। বর্তমানে সেখানে নেই কোন লাল ইটের স্থাপনা, নেই কোন শহুরে যান্ত্রিকতা তার পরবর্তে রয়েছে দিগন্ত প্রসারিত সবুজ শ্যামল মাঠ। ভৌগোলিক অবস্থা: সীমাঃ বাংলাদেশের দক্ষিণে মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি সুপ্রাচীন জনপদ নোয়াখালী জেলা। জেলার আয়তন ৩৬০৭.৫০ বর্গ কিঃমিঃ। এর উত্তরে কুমিল্লা জেলা, দক্ষিণে মেঘনার মোহনা এবং বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ফেনী এবং চট্টগ্রাম জেলা, পশ্চিমে লক্ষ্মীপুর এবং ভোলা জেলা। অবস্থানঃ নোয়াখালী জেলা উত্তর গোলার্ধে নিরক্ষ রেখা এবং কর্কট ক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী ২২০ ০৬/ থেকে ২২০ ১৭/ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০০ ৩৮/ থেকে ৯১০ ৩৫/ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত এবং সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক গড়ে ১৬¢ ফুট উচ্চে অবস্থিত। আয়তনঃ নোয়াখালী জেলা উত্তর-দক্ষিণে দীর্ঘ। জেলার বর্তমান আয়তন ৩৬০৭.৫০ বর্গকিমি। তার মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় বিশাল অংশে হাতিয়া দ্বীপ হাতিয়া। যার আয়তন প্রায় ৫৭৪ বর্গমাইল। জলবায়ুঃ নোয়াখালী জেলা ক্রান্তীয় মেীসুমী জলবায়ুর অন্তর্ভূক্ত। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ পশ্চিম দিক ও শীতকালে উত্তর পূর্ব দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয় । ভৌগলিক বিশেষজ্ঞদের মতে নোয়াখালী জেলা মৌসুমী এলাকার ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ূর অর্ন্তভূক্ত। মৌসুমী বায়ূর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় ভূমি সংগঠনঃ নোয়াখালী মূলত পলিবিধৌত সমভূমি। এই সমভূমির মাটি বালিমিশ্রিত। ভূমি সংগঠনের দিক থেকে জেলার মৃত্তিকা উত্তর অঞ্চল এবং দক্ষিণ অঞ্চল দুই ভাগে ভাগ করা যায়। উত্তরাঞ্চলের মাটি দোয়াঁশ এবং পলিবহুল সেখানেধান,পাট,শাক-সবজি ইত্যাদির চাষ হয়ে থাকে। জোয়ার ভাটার জন্য সামুদ্রিক পানি দক্ষিন অঞ্চলের নদীগুলোতে প্রবাহিত হয় বলে সেখানে মাটিতে লবনাক্ততার পরিমান বেশি। নদীতীরবর্তী অঞ্চলে বর্তমানে উচু বাঁধ নির্মান করার ফলে ধান এবং অন্যান্য ফসলাদির চাষাবাদ সম্ভব হয়েছে। বাঁধ দেওয়ার ফলে জমি লবনাক্ততাও অনেকাংশে কমে গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিম্নঅঞ্চলের অবক্ষেপনের ফলে এখনো স্থানে স্থানে ভূমি সংগঠন চলছে।দক্ষিণ অঞ্চলের বিলে জলজ পচনশীল উদ্ভিদ ও নদীর পলি সংমিশ্রণে কালো ও আঁশযুক্ত এক প্রকার মাটির স্তর গড়ে ওঠে। এই মাটি সংমিশ্রিত হয়ে এক বিশেষ পর্যায়ে পৌছানোর পর সেখানে ভাল ফসল জন্মায়। খেলাধূলা ও বিনোদন: নোয়াখালী জেলার উল্লেখযোগ্য খেলাধুলার মধ্যে রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন এবং এ্যাথলেটিক্স। সমগ্র নোয়াখালীতে বিভিন্ন স্টেডিয়ামে এসব খেলা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার উল্লেখযোগ্য স্টেডিয়াম গুলো হচ্ছে জেলা সদরে অবস্থিত শহীদ ভূলু স্টেডিয়াম, সেনাবাগ ও বেগমগঞ্জ উপজেলা সদরে অবস্থিত ২ টি স্টেডিয়াম। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে গ্রাম পর্যায়ের বিভিন্ন স্কুল কলেজের খেলার মাঠে বিভিন্ন খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থা, বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা ও ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিবছরই ক্রিকেট লীগ, ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন এবং এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেলা উপজেলা থেকে গ্রাম পর্যায়ের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে এসব খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। জেলা বিভিন্ন খেলা প্রচলনের ইতিহাস নিম্নরূপ- ১৯৪৪-৪৫ সাল : নোয়াখালী পুরাতন জেলা শহরে আন্তঃ স্কুল পর্যায় ফুটবল খেলার সূচনা ১৯৪৯-৫০ সাল : জেলায় ক্রিকেট খেলা প্রচলন ১৯৫০ দশক : কাবাডি খেলার প্রচলন ১৯৪৯-৫০ : ভলিবল ও ব্যাডমিন্টন খেলার প্রচলন ১৯৬০-৬২ : এ্যাথলেটিক্স খেলার সূচনা নোয়াখালী জেলা ক্রিড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ১৯৬০-৬২ সাল থেকে নোয়াখালী জেলা ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন এবং এ্যাথলেটিক্স দল বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে। ভাষা ও সংস্কৃতি: আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক-ভৌগোলিক বহুবিধ অনুষঙ্গের কারণে অঞ্চল বেধে সংস্কৃতি ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা রুপ পরিগ্রহ করে। তাই একটি দেশের সামগ্রিক লোকসংস্কৃতি এবং একটি বিশেষ অঞ্চলের লোকসংস্কৃতিতেও অনেক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। নোয়াখালী জেলা প্রাচীন সমতট জনপদের একাংশ। তাই স্বাভাবিকভাবেই জেলার লোকসংস্কৃতিতে তার একটি পরিচ্ছন্ন ছাপ পরিলক্ষিত হয়। বহু ভাঙ্গা-গড়া, চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজকের নোয়াখালী যা এক সময় সম্ভাবনাময় সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। এ অঞ্চলের লোক সংস্কৃতির প্রতি একটু ঘনিষ্ট হলে সহজেই অনুমান করা যায় যে, এ অঞ্চলের একটি সমৃদ্ধ লোক সংস্কৃতির পরিমন্ডল রয়েছে। লোক সংস্কৃতির একটি প্রধানতম শাখা লোকসাহিত্য। নোয়াখালীর লোক সাহিত্য এ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেকটা সমৃদ্ধ এবং জীবন ঘনিষ্ঠ; তা এ অঞ্চলের প্রবাদ-প্রবচন, আঞ্চলিক গান, ধাঁ-ধাঁ, ছড়া থেকে সহজেই অনুমেয়। নিম্নের আলোচনায় এর স্বরুপ কিছুটা উম্মোচিত হবে। প্রবচনের কথাই ধরা যাকঃ “মাইনষের কুডুম আইলে গেলে, গরুর কুডুম লেইলে হুঁইছলে” এ প্রবচনটি গুঢ়ার্থ হলো মানুষের কুটুম্বিতা তথা আতিথেয়তা বুঝা যায় পরস্পরের আসা যাওযার মাধ্যমে আর গরুর তা বোঝা যায় লেহনের মাধ্যমে। এ প্রবচনের অর্থের সাথে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ যে ঐতিহ্যগতভাবেই আত্মীয় বৎসল তা বুঝতে বাকী থাকার কথা নয়।“ ঝি থাইকলে জামাইর আদর, ধান থাইকালে উডানের আদর ”- এ প্রবচনটির সরল অর্থ হচ্ছে কন্যার কারণেই মানুষ কন্যা জামাতাকে খাতির করে আর ধান প্রক্রিয়াজারকরণের প্রযোজনীয়তা হেতুই মানুষ উঠানের যত্ন করে। কিন্তু এসব প্রবচনের মূলে যে সুক্ষ্ম দার্শনিক কার্যকারণবাদ রয়েছে তা কি আমরা ভেবে দেখার অবকাশ পাই। “মাছ ধোঅন হিঁড়া, গোস্ত দোঅন মিড়া” এ প্রবচনের মধ্য দিয়ে নবীন কোন রাঁধুনীকে শেখানোর চেষ্টা করা হয় যে, রান্নার আগে মাছটা খুব ভালোভাবে ধুতে হয় এবং মাংসটা অপেক্ষাকৃত কম ধুতে হবে। সাধারণ গার্হস্থ্য শিক্ষা ছাড়াও এ প্রবচন এটাই প্রমাণ করে যে, এ অঞ্চলের মানুষ সুদীর্ঘ সময় ধরেই মাছ, মাংস খেয়ে অভ্যস্থ। “না হাইত্তে খায় হুরি, না হাইত্তে করে চুরি” এ প্রবচনের শিক্ষা হচ্ছে পারত পক্ষে মানুষ অসম্মানজনক কাজ করে না এবং সংরক্ষিত খাবার খায় না। মাছের সংকট বলেই মানুষ যেমন বাধ্য হয়েই শুটকি খায় তেমনি নিতান্ত বাধ্য হয় বলেই মানুষ চুরি করে। দার্শনিক এ শিক্ষার পাশাপাশি এ প্রবচনে চাটগাঁর মত শুটকি যে এ অঞ্চলের নৈমিত্তিক খাবার নয় তাও কিন্তু বুঝতে কষ্ট হয় না। এমনি “ হৈল হোনা গজার হোনা, যার যার হোনা তার তার হোনা” এ প্রবচনে সন্তান বাৎসল্যের সাথে সাথে আত্মমুখী ভালোবাসার মজ্জাগত বোধটি সরলভাবেই বিধৃত হয়। শোল মাছ, গজার মাছ যেগুলি কিনা রাক্ষুসে মাছ, যারা অন্য মাছের পোনা অবলীলায় খেয়ে সাবাড় করে। কিন্তু তারা নিজ নিজ পোনাকে সোনা যেমন মূল্যবান ধাতু হিসেবে মানুষ আগলে রাখে তেমনি আগলে রাখে। উপরিউক্ত প্রবচন পাঁচটির মত হাজারো প্রবচন এখানকার লোকমুখে প্রতিনিয়তই ফিরছে। শুধু আমরা তা মনোযোগী হয়ে আমলে নিইনি, নেইনা। আঞ্চলিক গানের ক্ষেত্রে যদি একটি দৃষ্টি দেই- আঞ্চলিক গানের কথা বলছি এ কারণে যে, লোকগীতি বললে তা আমাদের জেলা ছাড়িয়ে পুরো ভাটি অঞ্চলকে যুক্ত করে ফেলে। তবে ভাটিয়ালী গানে যে এ জেলার মৌলিকত্ব নেই তা নয়। ভাটিয়ালী গান-গীতির ভৌগোলিক সীমা অনেক বেশি প্রসারিত। কাজেই একটি ছোট অঞ্চলের গানই বোধ হয় প্রাধান্য পাওয়া প্রয়োজন। যেমন- “ইদ্দুরিতান মাইজদী শঅর এত্ত লাগে বালা, যদিও নাই এ শঅরে হাঁচ তালা দশ তালা” জাতীয় গান যখন গীত হয় তখন কোট প্যান্টালুন পরা সাহেব পথচারী শিল্পীর দিকে না তাকালেও কানটাকে যে অনেকক্ষণ সেদিকে দিয়ে রাখেন তা দৃঢ়চিত্তে বলা যায়। “আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী রয়েল ডিস্টিক ভাই” এ গান আঞ্চলিক সাহিত্য সম্ভারে নোয়াখালী যে সঙ্গিতোপযোগী তারই স্বাক্ষর রাখে শ্রোতার শ্রুতিতে স্মৃতিতে। এ অঞ্চলের আঞ্চলিক গান ও শ্লোক যা নোয়াখালীর গ্রামে-গঞ্জে এখনো দারিদ্র পীড়িত অধিকার বঞ্চিত মানুষকে ক্ষণিকের আয়েসী-আড্ডায় বুদ্ধিদীপ্ত ও চিন্তামগ্ন করে কিংবা কিঞ্চিত বিনোদিত করে এগুলোও তারই প্রমাণ। “আঁডে গুড় গুড়, ছাঁড়ে মাডি ছ চোক তিন হুগুডি” -এ ধাঁ-ধাঁ টির উত্তর হলো হাল বা লাঙ্গল চালানো। জীবনের প্রত্যাহিকতাকে রসসিত্তু উপস্হাপন কারার ক্ষেত্রে আমাদের নিরক্ষর পুর্বসুরীরা যে মোটেই অদক্ষ ছিলেন না, এ ধাঁ-ধাঁ তারই উৎকৃষ্ট প্রমাণ।“আষ্ট ঠেং হোল আঁডু, তার নাম রাম টাডু, মাছ ধইত্তে যায়রে টাড়ু, হুউনাত হাতি জাল, মাছ খায় চিরকাল” মাকড়শাকে নিয়ে রচিত এ ধাঁ-ধাঁ আট পা বিশিষ্ট এ জীবের জীবন সমীক্ষণে যে গভীর পর্যবেক্ষণের পরিচয় ফুটে উঠে তাতে আমাদের পুর্বসুরীদের মেধার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবনতই হতে হয়। এরকম “ উডান ঠন ঠন হিঁড়াত বাড়ী, ধলা হিরিসতার হোন্দে দাঁড়ি”। “ কেরে ভাই চৈতি রাঙ্গা, গাছের আগাত হৈল হো’না”। “ বনের তোন্ বার অইল ভুতি, ভাত বেড়াই দিল মুতি ” যথাক্রমে- রসুন, খেজুর, লেবু। ফল ফসল সংক্রান্ত ধাঁধা ছাড়াও প্রত্যাহিক জীবনের নানা উপকরণ নিয়ে রয়েছে হাজারো বৃদ্ধিদীপ্ত মুখরোচক ধাঁধাঁ। এছাড়াও বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে জীবনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাকে নিয়ে দেখা যায় শত শত ছড়া, পদ-পদ্য এমনি প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ছড়া হচ্ছে-আচ্ছালামালাইকুম এয়, দুলা আইছে বিয়া কইত্তো আন্নেরা আইছেন কেয়া। উত্তরে-“ওআলাইকুম আচ্ছালাম ওবা, দুলা আইছে কিয়া কইত্তো আমরা আইছি শোবা ”। কিন্তু সেল্যুলয়েডে বন্দী জীবনাংশের তুলনায় এ অঞ্চলের নট-নটীদের নান্দনিক উপস্থাপনায় এখনো গ্রামে গঞ্জে মানুষকে পুরোরাত জেগে যাত্রা পালা শুনতে কম বেশি দেখা যায় বৈকি। রঙমালা চৌধুরীর পালা, বেদের মেয়ে ইত্যাদি এ অঞ্চলের মৌলিক রচনা ও উপস্থাপনা। কিং এডওয়ার্ড আর সিম্পসনের প্রণয় “ চৌধুরী রঙমালা” র প্রণয় অপেক্ষা শক্তিশালী বলে বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই। লোক-সাহিত্যের কথা বাদ দিলেও এ অঞ্চলের জন জীবনে যে ঐতিহ্য লালিত তার শিল্প বোধ ঈর্ষণীয় বলতে হবে। আপনি যদি নাগরিক সংস্কৃতির বলয় থেকে বেরিয়ে গ্রামে ঘুরেতে যান, আতিথ্য গ্রহণ করেন, আপনার দৃষ্টিতে গেঁয়ো কোন মানুষের আতিথ্যে মুগ্ধ হবেনই। শুরু থেকে ফেরা পর্যন্ত আপনি পাবেন নানা ঐতিহ্যের স্বাক্ষর। দেখবেন আপনাকে বসার জন্য যে পাটি বা বিছানা দেয়া হয়েছে তাতে রয়েছে যত্নে বোনা কারুকর্ম। হয়তো তারই ওপর বিছিয়ে দেয়া হয়েছে একখানা চাদর যাতে যতেণ করা সুচিশিল্প কিংবা এককোণে সুই সুতায় আঁকা বিচিত্র বনফুল আপনাকে আকৃষ্ট করবে। ক্ষণিকের জন্য আপনি হযতো ভাববেন বাহ্ বেশতো। আমাদের মায়েদের-মেয়েদের ঐতিহ্যগত শিল্পবোধ আপনাকে আড়োলিত করবে। হয়তো কেবল পাটালী গুড় আর শুকনো মুড়িই দেয়া হলো আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে; দেখবেন যে টুকরিতে বা সাজিতে তা দেয়া হবে তাতে রয়েছে নিপুণ কারুকাজ খচিত। ধাতব পানদানে কিংবা বেত, আতি, সুতো ইত্যাদি সমন্বয়ে বানানো পানদানে আপনাকে দেয়া হবে পান। দৃষ্টি থাকলে আপনি খুঁজে পাবেন আমাদের হাজারো বছরের লালিত ঐতিহ্য। লাঙ্গল-জোয়াল, কোদাল-কাস্তে, টুকরি-সাজি, যেটার দিকেই তাকান না কেন আমাদের ঐতিহ্যগত শিল্পরসের একটি নমুনা আপনাকে আকৃষ্ট করবেই। গোপাল হালদারের কথায় তাই একমত পোষণ করে বলতে হয় “ চারু ও কারু কলা দু’ই সংস্কৃতির পরিচয় দেয় ”। খনিজ সম্পদ: নোয়াখালী জেলায় তেমন কোন খনিজ সম্পদ নেই। ষাটের দশকে এ জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট নামক স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে একটি গ্যাস কূপ খনন করা হয় এবং গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর কিছুদিন সে কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে কূপটি বন্ধ করে দেয়া হয় এবং অদ্যাবধি তা বন্ধ অবস্হায় রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি পেট্রোবাংলা জেলার কোম্পানীগঞ্জে একটি পরীক্ষামূলক কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করা যায়, উদ্যোগটি সফল হলে এটি জাতীয় অর্থনীতি বিরাট ভূমিকা রাখবে। বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব: মাইনিং ইঞ্জিনিয়ার ওবায়েদ উল্যা, আবদুল মালেক উকিল, সাবেক প্রধান বিচারপতি ব্যারিস্টার বদরুল হায়দার চৌধুরী, শহীদ বীর শ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন, রফিক উল্যা চৌধুরী, শহীদ বুদ্ধিজীবী এ.এন.এম. মুনীর চৌধুরী।

প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ ভূটান

দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা
পেয়েছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত
স্বাধীনতা। এই সময় আমরা আমাদের
পাশে পেয়েছি অনেক বন্ধুপ্রতিম
রাষ্ট্র, পেয়েছি বিরোধিতাকারীও।যেমন বিরোধিতা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র,সৌদিআরব,চীনসহ তাদের মিত্রদেশগুলো।।বিজয় লাভের পর কয়েকটি দেশ আমাদেরগ্রহণ করেনি, আবার অনেকেই গ্রহণ করেছে বন্ধুর মতো করে।সৌদি এবং চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় পচাত্তরের পরবর্তী সময়ে। ১৯৭১ সালের ৬ডিসেম্বর ভুটানই সর্বপ্রথমসদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভারত একই দিনে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি
দিয়েছিল। কিন্তু ভুটানই স্বীকৃতিদাতা
প্রথম দেশ। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি
দেয় ওই সময়কার ভুটানের রাজা
জিগমে দরজি ওয়াংচুকের।

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান সম্পর্কে কতটুকু জানেন?

মুক্তিযুদ্ধে ভার‌তের অবদান সম্পর্কে কে কত টুকু জা‌নেন ?
একাত্তর সালের প্রথম থেকে নয়মাস পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আইন ভেঙ্গে তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ হয়েও এককোটি বাসস্থান হারা,আতঙ্কিত মানুষকে আশ্রয় ,খাদ্যের যোগান দিয়েছিল ভারত।যেখানে কলকাতা এবং ত্রিপুরাবাসীদের অবদান অনসীকার্য।যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।ভারত সরকার অস্রের যোগান ও মুক্তিবাহিনীকে ট্রেনিং করার সুযোগ করে দিয়েছিল।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনাকাল থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সফল করার জন্য তৎকালিন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আহার-নিদ্রা ত্যাগ করে দেশে-বিদেশে যে ভূমিকা রেখেছেন তা বিশ্বে এক বিরল নজির হিসেবে স্থান করে আছে। ২৭ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য ইন্দিরা গান্ধীর কর্মকান্ড ও ভূমিকা যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম :

২৭ মার্চ ১৯৭১ : প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতের লোকসভায় ভাষণ দানকালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ তুলে ধরে নিজেদের করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেন।

৩১ মার্চ : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতার জন্য ভারতীয় লোকসভায় প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

০৩ এপ্রিল : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহম্মদকে সাক্ষাৎকার দেন। তিনি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে চান। আলোচনাকালে তাজউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ সরকার গঠন ও নিজেকে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকে সরকারপ্রধান করার কথা ব্যক্ত করেন এবং ইন্দিরা গান্ধীর সহযোগিতা চান।

০৭ এপ্রিল : তাজউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য আশ্রয় ও রাজনৈতিক কাজ পরিচালনার সুযোগসহ সার্বিক সাহায্য প্রদানের আশ্বাস পুনঃব্যক্ত করেন।

১০ এপ্রিল : মুজিবনগর সরকার গঠন সম্পর্কে অবহিত হন।

১৩ এপ্রিল : লক্ষ্নৌতে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের প্রসঙ্গে চীনকে উদ্দেশ করে বলেন, পাকিস্তানের প্রতি চীনের সমর্থন ভারতকে তার অবস্থান থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। কংগ্রেসের প্রতিনিধি সভায়ও তিনি বাংলাদেশের বিষয়টি এখন আর পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় তা যৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা করেন।

০৭ মে : ভারতের সম্মিলিত বিরোধীদলের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। এ বৈঠকে বাংলাদেশের ও মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহায়তার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শুধু ভারতীয় মুসলিম লীগ ও করন সিং এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তিনি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একই মনোভাব ব্যক্ত করেন।

১৩ মে : বেলগ্রেডের রাজধানী বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত বিশ্বশান্তি কংগ্রেসের সম্মেলনে তার বিশেষ ভাবে নির্বাচিত ভারতীয় প্রতিনিধিরা সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভারতের সাহায্য-সহযোগিতা পুনঃব্যক্ত করেন। সম্মেলনে ইন্দিরা গান্ধীর বাণী পাঠ করা হয়। বাণীতে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনে উপস্থিত ৮০টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানায়।

২৩ মে : মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত হোসেনের কাছে লিখিত চিঠিতে বাংলাদেশ থেকে আগত বাঙালিদের ভারতে আশ্রয় নেয়ায় দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে সৃষ্ট গুরুতর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি এ ব্যাপারে বৃহৎ শক্তির দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নয় বলে জানান। তিনি আরও লিখেন শরণার্থী সমস্যা সমাধানে বৃহৎ শক্তিগুলো পাকিস্তানেকে বাধ্য করতে ব্যর্থ হলে ভারত জাতীয় স্বার্থরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবে।

৫ জুন : রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিদের সঙ্গে পৃথকভাবে এবং সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের শরণার্থী সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান জগজিত সিং অরোরা ও পুলিশপ্রধান প্রসাদ বসুর সঙ্গেও জরুরি বৈঠকে মিলিত হন।

২৯ জুন : ভারতের কংগ্রেস দলের পার্লামেন্টারি সভায় ভাষণদানকালে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারত কোন হঠকারী নীতি গ্রহণ করবে না। তিনি দলীয় সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে বাংলাদেশ ইস্যুতে জনমত গড়ার নির্দেশ দেন। তিনি লোকসভায়ও ভাষণ দেন। শরণার্থী সমস্যার সার্বক্ষণিক দেখাশুনার জন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতিমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়কে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে তার প্রতিনিধি করে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্তিতি ব্যাক্ষা করেন সেইসাথে পশ্চিম বঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করেন এবং গভর্নর এসএস ধাওয়ানকে পশ্চিমবঙ্গের সর্বময় কর্তৃত্ব দেয়া হয়।

০১ জুলাই : লন্ডনের টাইমস পত্রিকার সঙ্গে প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে ইয়াহিয়া খানের নয়া পরিকল্পনা পূর্ববাংলার অবস্থা আরও ভয়াবহ করে তুলবে।

০৩ জুলাই : লক্ষ্নৌতে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, বিশ্বের দেশগুলো বাংলাদেশ বিষয়ে এখনো ততটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ সমস্যা ভিয়েতনাম সমস্যার মতো সারাবিশ্বে সাড়া জাগাবে।

০৭ জুলাই : মার্কিন ফরেন সেক্রেটারি হেনরি কিসিঞ্জারকে বলেন, পাকিস্তানে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহে এ অঞ্চলের শান্তির প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

০৮ আগস্ট : ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্ধিরা গান্ধী বিশ্বের সব রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের কাছে ভারত সরকারের পক্ষে প্রেরিত এক বার্তায় শেখ মুজিবের জীবনরক্ষায় ও তার মুক্তির দাবিতে ইয়াহিয়া খানের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পাকিস্তান সরকার প্রহসনমূলক বিচারের নামে শেখ মুজিবকে হত্যা করলে বাংলাদেশের অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

১১ আগস্ট : বিশ্বের ২০টি রাষ্ট্রের প্রধানদের কাছে শেখ মুজিবের প্রাণরক্ষার জন্য প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানান।

১২ আগস্ট : জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলকে ইসলামবাদ গিয়ে শেখ মুজিবের বিচার বন্ধ করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সম্পর্কে অন্যান্য দেশের অনীহার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

৩০ আগস্ট : বিশ্ব শান্তি পরিষদের মহাসচিব রমেশ চন্দ্রকে সাক্ষাৎকার দেন। তিনি বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতের সার্বিক সহায়তা প্রদানের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেন।

২৮ সেপ্টেম্বর : ক্রেমলিনে সোভিয়েত নেতা ব্রেজনেভ, পোদগর্নি ও কোসিগনের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ছয় ঘণ্টা আলোচনা করেন। সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগিন প্রদত্ত ভোজসভায় ভাষণদানকালে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে এক মরণপণ যুদ্ধে লিপ্ত। এটা ভারত-পাকিস্তান সমস্যা নয়, এটা আন্তর্জাতিক সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সাড়া অত্যন্ত কম। এ পর্যন্ত ৯০ লাখ শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। সোভিয়েত নেতা বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

২৯ সেপ্টেম্বর : সোভিয়েত-ভারত যুক্ত ইশতেহার প্রকাশ। মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে শ্রীমতী গান্ধী বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারতের ভূমিকা তুলে ধরেন।

০৩ অক্টোবর : সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট নিকোলাই পদগর্নি দিল্লি সফর করেন। রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে পৃথক আলোচনা ও বৈঠক করেন। হ্যানয়ের উদ্দেশে যাত্রাকালে পদর্গনি বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদশর বিষয়ে একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌছানোর জন্য বর্তমান রুশ-ভারত সম্পর্কের মনোভাবের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সব রকম সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে।

০৯ অক্টোবর : শিমলায় সর্বভারতীয় কংগ্রেসের উদ্বোধনী ভাষণে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী বলেন, ভারত বাংলাদেশের ন্যায়সংগত সংগ্রামের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে।

১০ অক্টোবর :পাকিস্তানের আলোচনার প্রস্তাবের সম্ভাবনায় দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রীমতী গান্ধী বলেন, বাংলাদেশ প্রশ্নে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের আলোচনার কোন সম্ভাবনা নেই।

১৪ অক্টোবর : বেলগাঁওয়ে এক জনসভায় ভাষণে বলেন, বাংলাদেশের সংকট নিরসনকল্পে যেকোন রাজনৈতিক সমাধান আওয়ামী লীগের কাছে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

২১ অক্টোবর : ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও যুগোসস্নাভিয়ার প্রেসিডেন্ট যোশেফ টিটো এক যুক্ত বিবৃতিতে পাকিস্তানকে সাবধান করে দিয়ে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বেআইনি ঘোষিত আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিদান অবশ্য প্রয়োজন বলে জানান।

২৪ অক্টোবর : বাংলাদেশ পরিস্থিতি ও শরণার্থী সমস্যা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সর্বশেষ অবস্থা জানানোর উদ্দেশে ১৯ দিনের বিশ্ব সফরে বাহির হন।

২৫ অক্টোবর : ব্রাসেলসে রয়েল ইনস্টিটিউট অফ ইনারন্যাশনাল এফেয়ার্সের ভাষণে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, বাংলাদেশের ৯০ লাখের বেশি শরণার্থী পাকিস্তান সামরিক সরকারের অমানবিক নির্যাতনে দেশে টিকতে না পেরে প্রাণ বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগামে বিশ্ব বিবেককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

২৬ অক্টোবর : ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মিসেস গান্ধী বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারতের মনোভাব ব্যক্ত করে বলেন, এ ব্যাপারে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সমঝোতার কোন ভিত্তি নেই। সমস্যা সৃষ্টি করেছে পাকিস্তান আর খেসারত দিচ্ছে ভারত। এ সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু একটা করতেই হবে। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় পৌছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কজোনাস ও চ্যান্সেলর ড. ব্রনেক্রাকির সঙ্গে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

২৮ অক্টোবর : ভিয়েনার অস্ট্রীয়ান কোয়ালিটি আয়োজিত এক সভায় ভাষণ দেন। তিনি বাংলাদেশ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন ও ভারতে আশ্রয়প্রাপ্ত শরণার্থীদের জন্য ভারত যা করছে তা তুলে ধরেন।

৩১ অক্টোবর : ব্রিটেন সফর করেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড হিথের সঙ্গে বাংলাদেশ বিষয়ে দু’ঘণ্টাব্যাপী আলাপ করে পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্রিটেনের সহায়তা চান এবং আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি বিষয়ে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

০২ নভেম্বর : বিবিসি’র সংবাদদাতা মার্ক টালির সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

০৩ নভেম্বর : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সঙ্গে আলোচনার জন্য লন্ডন থেকে ওয়াশিংটন পৌছেন।

০৪ নভেম্বর : প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

০৫ নভেম্বর : ১২৫ মিনিট বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সঙ্গে। শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী তাকে বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

০৬ নভেম্বর : যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের পটভূমি ব্যাখ্যা করেন এবং বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান একজন অসাধারণ নেতা। তার সঙ্গে অন্য কারও তুলনা চলে না। তিনি বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে সশস্ত্র সংগ্রামের পটভূমি যৌক্তিকভাবে তুলে ধরেন।

০৭ নভেম্বর : ৪ দিনের সফরে ফ্রান্সের পথে যাত্রা করেন। সাংবাদিকদের জানান, ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে তার আলোচনার কিছু নেই। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন।

০৮ নভেম্বর : প্যারিসে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী বলেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ভারত-পাকিস্তান সমস্যা নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। কিন্তু বাংলাদেশ নিয়ে কোন আলোচনা নয়। ফরাসি প্রেসিডেন্টের দেয়া ভোজসভায় শ্রীমতী গান্ধী বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার চিত্র তুলে ধরেন।

০৯ নভেম্বর : ফরাসি প্রধানমন্ত্রী দেলমাস ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে প্যারিসে বৈঠক হয়। পরে তিনি প্রেসিডেন্ট জর্জ পঁপিপদুরের সঙ্গেও আলোচনা করেন।

১০ নভেম্বর : ৪ দিনের সফরে তিনি প্যারিস থেকে জার্মানির উদ্দেশে যাত্রা করেন। জার্মান পৈছেন চ্যান্সেলর উইলি ব্রান্টের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন।

১১ নভেম্বর : পশ্চিম জার্মানির চ্যান্সেলর উইলি ব্রান্ট শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি শরণার্থীদের সাহায্যার্থে ১৪০ কোটি ডলার দানের ঘোষণা দেন। মিসেস গান্ধী বলেন, পশ্চিম জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন।

১২ নভেম্বর : এক সংবাদ সম্মেলনে মিসেস গান্ধী বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানান। পশ্চিমবঙ্গের জনমতের চাপে মুক্তি বাহিনীকে সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও তিনি জানান।

১৪ নভেম্বর : বিদেশ সফরশেষে দিল্লি ফিরে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশে যদি সামরিক অভিযান অগত্যা চালাতেই হয়, আমরা তা করব। তিনি এ মাসের শেষের দিকে অথবা আগামী মাসের প্রথম দিকে চূড়ান্ত সামরিক অভিযান হবে।

১৪ নভেম্বর : বিদেশ সফরশেষে দিল্লি ফিরে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশে যদি সামরিক অভিযান অগত্যা চালাতেই হয়, আমরা তা করব। তিনি এ মাসের শেষের দিকে অথবা আগামী মাসের প্রথম দিকে চূড়ান্ত সামরিক অভিযান চালানোর আভাস দেন। ভারতীয় মন্ত্রিসভার রাজনীতিবিষয়ক কমিটির সভায় তিনি ইয়াহিয়া খানকে আন্তর্জাতিক নেতা কর্তৃক রাজনৈতিক সমাধানে সম্মত হওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় প্রদানের কথা বলেন।

১৫ নভেম্বর : নিউজ উইক পত্রিকাকে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী বলেন, আমাকে যদি বাঙালির মতো অবস্থায় উপনীত হতে হতো, তাহলে আমি অবশ্যই যুদ্ধ করতাম। ভারত বিশ্বের সব স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন করে।

১৬ নভেম্বর : মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদকে দিল্লিতে সাক্ষাৎ প্রদানকালে ইউরোপ ও আমেরিকা সফরকালে বাংলাদেশ প্রশ্নে দেশগুলোর মনোভাব ব্যক্ত করেন।

২৭ নভেম্বর : দিল্লিতে শ্রীমতী গান্ধী বলেন, বাংলাদেশ বিষয়ে এখনো একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌছনোর সময় আছে। পাকিস্তান ইচ্ছা করলে শেখ মুজিবকে মুক্তি দিয়ে একটি রাজনৈতিক সমাধানে আসতে পারে। পাকিস্তানের সেনাশাসক ইয়াহিয়া খানকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পাকিস্তানে ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রী অটেলের মাধ্যমে শেখ মুজিবকে মুক্তি দেয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বাংলাদেশ প্রশ্নে ইয়াহিয়া খানের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে আলোচনার একমাত্র অধিকার শেখ মুজিবুর রহমানের রয়েছে।

২৮ নভেম্বর : রাজস্থানে এক জনসভায় ভাষণদানকালে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের জনগণের মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রশ্নে জাতিসংঘ অথবা বৃহৎ শক্তির চাপের মুখে ভারত নতি স্বীকার করবে না। তিনি বলেন, আমরা শান্তি চাই। পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ভারতের কোন বিরোধ নেই। আমাদের নিরাপত্তা বিঘি্নত হলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না।

৩০ নভেম্বর : রাজ্যসভায় ভাষণে বাংলাদেশ থেকে সব পাকিস্তানি সেনা ফিরিয়ে নিয়ে বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেবার আহ্বান জানান।

১ ডিসেম্বর : রাজ্যসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে সৈন্য অপসারণের নির্দেশ দিতে ইয়াহিয়া খানের প্রতি আহ্বান জানান।

২ ডিসেম্বর : দল্লিতে কংগ্রেস কর্মীদের সভায় বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সৈন্যদের চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। পাকিস্তান সরকারের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থা দেখার প্রস্তাব নাকচ করে দেন।

৩ ডিসেম্বর : কলকাতা গড়ের মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় ভাষণে তিনি ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক ধারার বৈপরীত্য তুলে ধরেন। ভাষণ চলাকালে জানতে পারেন যে, পাকিস্তান ভারত আক্রমণ করেছে। ভাষণ সংক্ষেপ করে তিনি দিলি্ল চলে যান। মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে বসেন। প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। রাত ১২টা ২০ মিনিটে ভারতবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন। ভাষণের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সর্বশক্তি দিয়ে মোকাবিলা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বলেন, ‘জয় আমাদের সুনিশ্চিত।’

৪ ডিসেম্বর : ভারতীয় লোকসভায় বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তুলে ধরেন।

৬ ডিসেম্বর : লোকসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে বাংলাদেশকে ভারত কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদানের কথা ঘোষণা করেন।

১০ ডিসেম্বর : দিলি্ল বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রসঙ্গে বলেন ভারত তখনই বিজয়ী হবে যখন বাংলাদেশ ও শেখ মুজিব মুক্ত হবে। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথাও বলেন। তিনি বলেন, ১২ বছরের স্কুলে পাঠরত বালকও মাত্র কয়েক দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে।

১২ ডিসেম্বর : দিলি্লতে এক জনসভায় ভাষণ দেন। ভাষণে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার ঘোষণা দেন।

১৩ ডিসেম্বর : জাতিসংঘের মহাসচিব উথান্টের কাছে পত্র লেখেন। পত্রে তিনি বলেন পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশের নিজস্ব সেনাবাহিনী মাতৃভূমিকে দখলদার মুক্ত করতে যুদ্ধ করছে। তিনি বাংলাদেশের বক্তব্য শোনার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান।

১৫ ডিসেম্বর : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সনের কাছে অতিজরুরি বার্তা পাঠান। বার্তায় তিনি ২৫ মার্চ থেকে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচারের বর্ণনা দেন। শরণার্থীদের দুদর্শাসহ বাংলাদেশের বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, তার প্রস্তাব মতে, শেখ মুজিবকে মুক্তি দিয়ে পাকিস্তান যদি আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান করত তাহলে যুদ্ধ এড়ানো যেত। কিন্তু যেহেতু পাকিস্তানিরা কোন কথাই শোনেনি, তাই যুদ্ধের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে।

১৬ ডিসেম্বর : শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ভারতীয় লোক ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন ঢাকা এখন একটি স্বাধীন দেশের রাজধানী। ভারতের জনগণ ও বাংলাদেশের জনগণকে তিনি শুভেচ্ছা জানান।

১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি পূর্ব অঞ্চলের সেনাপতি লে জে নিয়াজীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পাকিস্তানি বাহিনীর দখলমুক্ত হয় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে স্থান লাভ করে। এর পরে মিসেস গান্ধী পাকিস্তানি কারাগারে আটক থাকা বাঙালিদের প্রাণপ্রিয় নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির জন্য কূটনেতিক তৎপরতা জোরদার করেন। যার দরুন পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয় ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে। বঙ্গবন্ধু মুক্ত হয়ে স্বাধীন দেশে ফিরে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন। বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলেন। স্বাধীনতার মাত্র তিন মাসের মাথায় বঙ্গবন্ধুর কথায় ভারত নেত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ থেকে ভারতের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেন। বিশ্বে এ-ও এক নজিরবিহীন ঘটনা, যা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহান ব্যক্তিত্বের কারণে। আজ ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু দু’জনেই পরপারে। কিন্তু বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ আছে_ থাকবে চিরদিন। বাংলাদেশের জনগণ দেশের স্বাধীনতার জন্য এ দুই মহান নেতার প্রতি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবে।

(তথ্য সূত্র : বাংলাদেশ ডকুমেন্টস, ভলিউম ১ ও ২, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লি.; ঢাকা ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা, তপন কুমার দে, কাকলী প্রকাশনী, ঢাকা)।

সেকালে নোয়াখালীর ফুটবল

আমাদের দেশে ফুটবল খেলা খুবই জনপ্রিয়। বিশ শতকের প্রথম দশকে কলকাতা ও মফস্বল শহরগুালোতে ফুটবল খেলা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।নোয়াখালী জেলার সুধারাম ও জেলা স্কুল, জুবিলী স্কুল, অরুন স্কুল, বঙ্গ বিদ্যালয় প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা নিয়মিত ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ করতো। এরই মধ্যে গড়ে উঠতে থাকে দু’একটি ক্লাব। প্রতিটি স্কুলের তো ফুটবল টিম ছিলই, তদুপরি ক্লাবগুলোর মাধ্যমেও ফুটবল টিম গড়ে ওঠে। প্রতিবছরই আন্তস্কুল ফুটবল প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হতো। সে সময়ে শুধু ছাত্ররাই নয়, শিক্ষকদের মধ্যেও অনেকে ফুটবল খেলায় বেশ ব্যাক্তিগত করেছিলেন। ত্রিশের দশকে কলকাতায় ফুটবল মাঠে মোহামেডান স্পোটিং দলের অব্যাহত জয়যাত্রা আমাদের দেশেও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল। সুধারাম শহরের মুসলিম ক্রীড়ামোদীরা একতাবদ্ধ হয়ে গঠন করেন মোহামেডাম স্পোটিং ক্লাব।

এখনকার নোয়াখালীর বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাক্তিত্ত্ব খান বাহাদুর আবদুল গোফরান ছিলেন মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের সভাপতি। শহরের বাইরের অনেক মুসলমান ক্রীড়ামোদীও এ ক্লাবের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি সুদৃঢ় করতে আর্থিক সাহায্য করেছিলেন। সেসময়ে সুধারাম শহরে মোহামেডাম স্পোটিং ক্লাবের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঈমান আলী, আবদুল জব্বার খদ্দর (ফেনী), রফিক, জনু, সৈয়দ মাষ্টার ও জিয়াউল হক এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

জেলা সদর মাইজদীতে স্থানান্থরিত হওয়ার পর মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবকে নতুন করে গড়ে তোলা হয়। এই ক্লাবকে কেন্দ্র করে একদল নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টি হয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সিরাজ, ভূলু, রশীদ, ফাতু, সারোয়ার ও শাহ্জাহান। এদের অনেকে তৎকালীন পূরব পাকিস্তানে বেশ খ্যাতিলাভ করেছিলেন।

মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের পাশাপাশি হিন্দু ক্রীড়ামোদীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় স্টার ক্লাব। এই ক্লাবের সভাপতি ও সেক্রেটারী ছিলেন যথাক্রমে রায়বাহাদুর শুভময় দত্ত ও রায়সাহেব নগেন্দ্র কুমার শূর। তাদের বলিষ্ট নেতৃত্ত্বে অল্পসময়ের মধ্যেই স্টার ক্লাব যথেস্ট খ্যাতি অর্জন করে। এই ক্লাবের নিয়মিত খেলোয়াড়দের নিকুঞ্জ, জালাল, করুণা মজুমদার, মনু দাদা, অনুদা, বিজয় ও গিরেন্দ্র শীলের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। ভারত ও পাকিস্তান দুটি পৃথক রাষ্ট্রে পরিণত হলে সুধারাম শহরের অনেক নেতৃস্থানীয় হিন্দু ব্যাক্তিত্ত্ব দেশত্যাগ করে পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। ফলে স্টার ক্লাবের সমর্থকের সংখ্যা বিপুলভাবে হ্রাস পায়। হিন্দু-মুসলমান ক্রীড়ামোদীদের যৌথপ্রচেষ্ঠায় একটি ফসল টাউন ক্লাব। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মিলনতীর্থ ছিল এই ক্লাব। হিনউ-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের আর্থিক অনুদানে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। টাউন ক্লাবের নিয়মিত খেলোয়াড়দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন টোটো, বীরু ও বেচু। জেলা সদর মাইজদীতে স্থানান্তরিত হওয়ার পূর্বেই অফিসার্স ক্লাব প্রতিষ্টিত হয়। পানা উল্ল্যাহ আহমদ নামে উত্তরবঙ্গের এক তরুন ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে নোয়াখালীতে বদলী হয়ে এসেছিলেন। একজন দক্ষ ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে তার সুখ্যাতি ছিল। অফিসার্স ক্লাবের নিয়মিত খেলোয়াড়দের মধ্যে পানাউল্ল্যাহ আহমত ও অবিনাশ বাবুর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে। ‘সবুজ সংঘ’ নোয়াখালীর আর একটি ঐতিহাসিক ক্রীড়া সংস্থা। হিন্দু ও মুসলিম তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছিলে এ ক্লাব। কালা ও জীবন ছিলেন এই ক্লাবের দু’জন খ্যাতিমান খেলোয়াড়।

নোয়াখালী শহরের ব্যবসায়ী সমাজও এক্ষেত্রে মোটেই পিছিয়ে ছিলেন না। সুধারাম শহর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আগে নোয়াখালী ব্যবসায়ী সমাজ গঠন করেন মার্চেন্ট এসোসিয়েশন। মাইনিং ইঞ্জিনিয়ার ওবায়দুল্লাহ সাহেবের অনুজ সুধারাম শহরের তৎকালীন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুজিব উল্ল্যাহ অক্লান্ত চেষ্টায় গঠিত হয় এই ক্লাব। মার্চেন্ট এসোসিয়েশন ক্লাবের সভাপতি ও সেক্রেটারী ছিলেন যথাক্রমে হাজী আবদুল গফুর সওদাগর ও মুজিব উল্ল্যাহ। প্রধানত শহরের ব্যবসায়ীদের অর্থানুকুলেই এই ক্লাব পরিচালিত হতো। সুধারাম শহরের নাগপাড়ায় হিন্দু যুবকদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘এয়েট ক্লাব’। হিন্দু নাগরিকদের দেশত্যাগের ফলে এক সময় এই ক্লাবের অস্তিত্ত্ব বিলীন হয়ে যায়। ভূলুয়া এস্টেটের কর্মচারীরা গড়ে তুলেছিলেন ৎওয়ান্ডার ভূগোল ক্লাব’। নোয়াখালী শহরের ক্রীড়াক্ষেত্রে এ ক্লাবের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই ক্লাবের একদল নিয়মিত খেলোয়াড় ছিল। প্রধানত জমিদারী সেরেস্তার তহবিল থেকেই তাদের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হতো। খেলায় জয় নিশ্চিত করর জন্য এই ক্লাব দেশের অন্যান্য স্থান থেকেও খ্যাতনামা খেলোয়াড়দের নিয়ে আসতো।

শহরের দর্জিরাও ফুটবল টিম গঠন করতে কার্পন্য করেনি। সুধারামের দর্জিদের অর্থানুকুল্যে প্রতিষ্টি হয়েছিল একটি ‘দর্জি টিম’। আবদুল সোবহান খলিফা ছিলেন এই দলের পরিচালক। এই শহরের অন্যতম ক্লাব ছিল কিশোরগঞ্জ ক্লাব। সাবেক সুধারাম শহরের দক্ষিণে পৌরসভার বাইরে অবস্থিত ছিল এই ক্লাবটি। স্থানীয় অধিবাসীদের চাঁদায় এই ক্লাব পরিচালিত হতো।

সোনাপুর স্পোটিং ক্লাব গঠিত হয়েছিল সাবেক সুধারাম শহরের উপকন্ঠে। এই ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম ক্রীড়ামোদী মকবুল মিয়া উদারচিত্তে ক্লাবের জন্য অর্থ ব্যয় করতেন। সোনাপুর স্পোটিং ক্লাবের ফুটবলদল ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী। এ দলের খ্যাতিমান খেলোয়ড় ছিলেন আবদুল খালেক, মকবুল মিয়া ও কোব্বা।

বৃটিশ শাসনের শেষদিকে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন শাহজাহান সাহেব ফুটবল খেলা ও প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে অত্যান্ত উৎসাহী ছিলেন। তার নামে ও অর্থানুকুল্যে অনুষ্ঠিত হতো ‘শাহজাহান শিল্ড’ প্রতিযোগীতা। দেশ-বিভাগের পূর্ব পর্যন্ত এ শিল্ডের খেলা অত্যান্ত জাকজমক ও উদ্দীপনার মধ্যে অনুষ্ঠিত হতো। গুরুত্ত্বপূর্ণ ফুটবল প্রতিযোগীতা সাধারনত পুলিশ লাইন মাঠে আয়োজন করা হতো। পুলিশ লাইনের মাঠ নদীর ভাঙ্গনে তলিয়ে গেলে জেলখানার মাঠ ও কালেক্টরেট ময়দানে সাময়িকভাবে আয়োজন করা হয়েছিল। ১৯৪৮ সালে মাঠসহ কালেক্টরেট ভবন ও জেলখানা নদী ভাঙ্গনের শিকার হলে এই জনপ্রিয় খেলার চর্চা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অতপর মাইজদীতে জেলা সদর স্থানান্তরিত হলে জেলা স্কুল মাঠে আন্তস্কুল ফুটবল প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হতে থাকে।

মাইজদী শহরে ক্রীড়ামোদীদের চেষ্টায় নির্মিত হয় শহীদ ভূলু স্টেডিয়াম। স্থানীয় দলসমুহের প্রতিযোগীতা ছাড়াও মাঝে মাঝে এই স্টেডিয়ামে আন্তজেলা ফুটবল প্রতিযোগীতাও অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: ‘নোয়াখালী’ একটি গবেষনা ও তথ্যভিত্তিক স্মারকগ্রন্থ, নোয়াখালী পৌরসভা, ১৯৯৮।

ভালোবাসা ডিসেম্বর, ফেব্রুয়ারী, মার্চ বা দিবস কেন্দ্রীক ?

আমরা বাংগালী জাতী পুরোটাই নাছোড়বান্দা। যেটা মুখ দিয়ে বের করেছি সেটা চায়ই চাই।
যেমন সেদিন বলেছিলাম
” আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়! তোমাদের প্রত্যেকের কাছে আমার অনুরোধ রইলো – প্রত্যেক ঘরে ঘরে যুদ্ধ গড়ে তুলো ”

হলোও ঠিক তাই ! পাকিস্তানিরা সেদিন হত্যা শুরু করেছিল বলেই আমাদের দাবি হয়ে গেলো _
রক্ত যখন দিয়েছে, রক্ত আরও দেব! তবু এদেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।
“জয় বাংলা ”
“জয় বাংলা ”
ধীর্ঘ নয়মাসে ৩০লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে হলেও আমরা এদেশকে স্বাধীন করেছিলাম।
দু লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময় হলেও আমরা একটি স্বাধীন পতাকা ছিনিয়ে এনেছিলাম।

এ পতাকা এইদিনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ভাই আ স ম আঃ রবই উড্ডয়ন করেছিলেন।
সেদিন থেকেই স্বল্পদৈর্ঘ্য এই লিলেনের সবুজের বুকে রক্ত খচিত কাপড়টির কদর বেড়ে গেলো।
সে সাথে স্মৃতিসৌধ ও ৫২’র শহীদ মিনারের ও।

আমরা বাঙালি জাতি! একবার যেটা কদর করতে জানি সেটাকে বুকে স্থান দিতে দ্বিধাবোধ করিনা। যেমন ভারতকে আমরা যে পরিমাণ ভালোবাসতাম আর পৃথিবীর কোন দেশকে এতো ভালোবাসতাম না। আবার কেউ আমাদের ব্যাথা দিলে ছুড়ে ফেলতে সংকোচ বোধ করিনা। যেমন ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারত আমাদের যে ব্যাথা দিয়েছে তাতে বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা থাকা না থাকার কাজটি করেছিল।
অনেকে সেদিন থেকে মনেপ্রাণে এখন ভারতকে ঘৃণা করে।

কিন্তু আমার এতো সুদুর যাওয়ার কারণ হলোঃ
আমরা শুধু ২১শে ফেব্রুয়ারি নহে! জাতীয় যে কোন দিবসেই শহীদ মিনারের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করি। আমরা এই শহীদ মিনারকে এতোটাই ভালোবাসি এতো গভীরভাবে ভালোবাসি যে, আমরা এতে মাল্য দেয়ার সময় জুতো পর্যন্ত পরিনা।

কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো এখানেই , এটা শুধু ১/২ দিনের জন্য?

আমার নোয়াখালীতে যে শহীদ মিনারটি দন্ডায়মান তার খোঁজ কি কেউ নেন?
কেমন আছে সেই শহীদ মিনার?
ভালোবাসা কি সবসময়ই পায় সে?
নাকি শুধুই দিবস কেন্দ্রীভূত?
এমন ডজনখানেক প্রশ্ন পেটের নাড়িভুড়ি মাড়িয়ে দিচ্ছে বলেই আমি নিরুপায় হয়ে কলম ধরেছি! তখন রাত ১টা।
ঘুম আসছেনা এসব ভাবতে ভাবতে।

আমার নোয়াখালীর যে শহীদ মিনারে আমরা জুতা নিয়ে উঠিনি, সেখানে নিজ চোখে সেদিন ছাগল চড়তে দেখে নিজেকে স্থীর রাখতে পারলাম না। আবর্জনা পরিস্কার করতে গিয়ে দেখি সিগারেটের শতশত পরিত্যক্ত অংশ।
একটু পেচনে যেতেই দেখি সিগারেট খাচ্ছে কয়েকজন। চোখ রাঙা। আমার ক্যামেরা ভয়ে অন করিনি। কিছু বলার বা কাউকে বলার সাহসও হয়নি। ওদের গ্রুপ অনেক বড়। কিছুক্ষণ থাকতেই মাঝেমধ্যে বিশ্রী গন্ধ আসছে। সেটা সিগারেটের নয়। হয়তো অন্য কিছু। পরে জানতে পারলাম এটা গাঁজা। এর গন্ধ নাকি এমন হয়।

কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল তখন। সামনে আদালত। আর আদালতের সামনেই শহীদ মিনার। কিন্তু এ মিনারটা আজ অসহায়। বৃদ্ধাশ্রমের সেই বুড়ো বুড়ির মতো তার অবস্থা। বছরে একবার সন্তানরা খাকি পোশাক আর ইস্ত্রি জামা পরে সেহলাম করে। বাকি দিনগুলো কত কষ্টে কাটে কোন খোঁজ নেই।

সম্মানিত জেলা প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, আপনার দু ভাইতো সরাসরি যুদ্ধ করেছে। হৃদয়ের টানটা আপনারও কম না। বরং বেশি। আপনার একটু পাশেই তো এই শহিদ মিনার। বছরে দু চারটে দিনের মতো না হলেও অন্তত মাদকাসক্তদের হাত থেকে আমাদের এই সম্পদের রক্ষা করুন। আর কারও কাছে নহে এ দাবি নিছক আপনার কাছে মান্যবর জেলা প্রশাসক মহোদয়।

সেই সাথে বিজয় উৎযাপন কমিটির সম্মানিত সভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব এডভোকেট শিহাবউদ্দিন শাহীন ভাই আপনারও সু নজর কামনা করছি। এবছর বিজয় উৎযাপনের পরপরই যেন এটা অযত্ন অবহেলায় যেন না পড়ে থাকে সেদিকে একান্ত মনোযোগী হওয়ার উধাত্ত আহবান।

-আরিফ সবুজ –
সাংবাদিক ও লিখক

‘শহীদুল্লা কায়সার’ যে ঘরে অার কখনো ভোর হয় নি

পান্নার মন অাজ খুব বিষন্ন,বিকেলটাতে আজ একটুও সূর্যের অানাগোনা দেখা যায় নি,অাবহাওয়া অার চারদিকের ঘুমোট পরিস্থিতিতে মনটা এমন খারাপ হওয়াই স্বাভাবিক। এদিকে পান্নার দু’বছর বয়সী ফুটফুটে মেয়ে শমী ও বিকেল থেকে খুব জ্বালাতন করছে।কিন্তু সব ছাপিয়ে একটা কথা সবার মুখেই বারংবার হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলছে যে,বাংলাদেশ স্বাধীন হতে যাচ্ছে!
এতক্ষণে পাঠক নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছেন যে এটা ১৯৭১ সালের কথা বলা হচ্ছে,হ্যাঁ একাত্তর এর কথাই বলছি,অারেকটু স্পষ্ট করে বলি,একাত্তরের ১৪ ই ডিসেম্বর এর কথাই বলছি,তাহলে অাবার সেদিনকার সন্ধ্যায় ফিরে যাওয়া যাক।
পুরান ঢাকার বাসাটিতে সেদিন সন্ধ্যাটা ধীরে ধীরে নেমে এসেছিলো,যে সন্ধ্যা অার কখনো ভোরের অালো দেখে নি। বাসার কর্তা তৎকালীন ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকার সম্পাদক ‘ভদ্রলোক’ তখন মোমবাতি জ্বালিয়ে পাশে বসে রেডিও শুনছিলেন।তিনি তখন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, রেডিও-টিভি নাটকে নামে-বেনামে কিংবা ‘নাম নেই’ ছদ্মনামে বিপ্লবী লেখা লিখতেন,শোষনের বিরুদ্ধে বুক ছিতিয়ে দাঁড়াবার অভ্যেস ভদ্রলোকের ছাত্রজীবন থেকেই ছিলো। একাত্তর এর ২৫ শে মার্চ ভদ্রলোকের পত্রিকা অফিসটি হানাদাররা জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে কমরেড মণি সিং বুঝে ফেলেন যে ঝড়ের ঝাপটা কিছুটা হলেও এই ভদ্রলোকের উপর এসে পড়বে,তাই তিনি তখনই ভদ্রলোককে চিঠি পাঠান তিনি যেন দেশত্যাগ করে ভারতে অাশ্রয় নেন,তখন রাশিয়ান এম্বাসি থেকেও ওনাকে ইনভাইটেশন পাঠানো হয় তিনি যেন স্বদেশ ত্যাগ করে রাশিয়ায় যান।কিন্তু তিনি বারবার তখন এ কথাই বলতেন,সবাই যদি দেশ ছেড়ে চলে যাই তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করবে কে? পেছন থেকে শক্তি অার সাহস যোগাবে কে? তাই তিনি এই দেশ ছেড়ে যান নি,মাঝেমধ্যে অত্যন্ত খারাপ সময়ে ওনাকে অাত্মগোপনে যেতে হয়েছে,কিন্তু কখনো দেশমাতৃকার মায়ার বন্ধন কেউ ছিন্ন করতে পারে নি।
সেদিন সন্ধ্যায় উনি খুব মন দিয়ে রেডিও শুনছিলেন,উনার স্ত্রী পান্না তখন ব্যাস্ত ছিলেন শমী কে খাওয়ানোর কাজে।
ঠিক তখনই দরজায় ঠকঠক্ আওয়াজ,তিনি ভাবলেন মুক্তিযোদ্ধারা এসেছেন,ছোটভাই ওবায়েদউল্লাহ কে দরজা খুলতে বলে উনি অালমারি থেকে টাকা বের করলেন। ওবায়েদউল্লাহ দরজা খুলেই এক পাশে সরে গেলেন কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা একজনের ধাক্কায়,হঠাৎ চার পাঁচ জন লোক ডুকলেন ঘরে,সবার হাতে অস্ত্র,মুখ ঢাকা কালো কাপড়ে,তারা জিজ্ঞাসা করল, ‘শহীদুল্লাহ কায়সার কে? তিনি এগিয়ে গিয়ে বললেন, ‘আমিই শহীদুল্লাহ কায়সার’। লোকগুলি তাঁর হাত ধরে তাঁকে নিয়ে যেতে শুরু করল। সঙ্গে সঙ্গে পন্না,তার বোন ও ভাই তাঁকে হাত ধরে রাখার চেষ্ঠা করলেন। কিন্তু শত শক্তি প্রয়োগ করেও তারা ধরে রাখতে পারলেন না। জানোয়াররা তাঁকে নিয়ে গেল। যাবার সময় দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বলেছিলেন, ‘ভাল থেকো’।

না,অার কখনো তারা ভালো থাকতে পারে নি,কারণ শহীদুল্লা কায়সার অার কখনো ফিরে অাসেন নি,সহধর্মিণী পান্না কায়সার এর পরে রায়েরবাজার বাধ্যভূমি তে প্রতিটা লাশ উল্টিয়ে দেখেছেন,কোথাও তিনি প্রিয় মুখটি একটিবারের জন্যও দেখেন নি,মেয়ে শমী কায়সার এর কাছে এখনো তার বাবা ফ্রেমে বন্ধী এক জলন্ত ইতিহাস আর ডায়েরীর ভাজে নিরব চোখে চেয়ে থাকা কলমের কালি।

এর দুদিন পর দেশ স্বাধীন হয়,কিন্তু ততক্ষণে বাংলাদেশ নামক দেশটিকে জ্ঞান,বুদ্ধি,শিক্ষা,মেধায় পঙ্গু করে দেয়া হয়।৫০ বছর পিছিয়ে দেয়া হয় এই জাতি কে।সেদিন শহীদুল্লা কায়সার এর মত বাংলাদেশের কত কত বুদ্ধিজীবী কে ঘর থেকে তুলে নিয়ে চিরকালের জন্য হারিয়ে দেয়া হয় সেটা উপরে থাকা প্রবল জ্ঞানের অাধাঁর ভালো জানেন।

এরপর ১৯৭২ সালের ৩০শে জানুয়ারি শহীদুল্লা কায়সার এর অনুজ,মেধাবী লেখক এবং সাড়াজাগানো চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান এর টেলিফোনে একটি কল অাসে ‘অাপনার ভাই কে নিতে অাসুন’ ভাইকে সেদিন ফিরিয়ে অানতে গিয়ে অার কখনো ফিরে আসেন নি জহির রায়হান।যেমনি অার কখনো ভোর হয়নি পুরান ঢাকার সেই বাসাটিতে…

১৯০৬ সালের নোয়াখালীকে নিয়ে স্মৃতিকথা

নোয়াখালী নিয়ে স্মৃতিকথা

শ্রীজিতেন্দ্র কুমার সেনগুপ্ত
কলিকাতা হাইকোর্ট বার এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি

নোয়াখালী আমার জন্মস্থান। ইংরেজী ১৮৯০ সনে আমি পুরাতন নোয়াখালী শহরের ভূমিষ্ঠ হই। আমার পিতা স্বর্গীয় রাজকুমার সেন সেখানে একজন লব্ধ প্রতিষ্ঠিত উকীল ছিলেন। তৎকালীন উকীলদের মধ্যে গভর্ণমেন্ট প্লীডার তারকচন্দ্র গুহ (তারক রাজা), রাধাকান্ত আইচ, কুমুদিনী মুখোপধ্যায়, কালীকুমার দাশ, দিগম্বর সেন নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। ইহাদিগকে আমি দেখিয়াছি।

১৯০৬ সালে যখন আমি এন্ট্রান্স পরীক্ষা দেই, তখন নদী নোয়াখালী জিলা স্কুল হইতে প্রায় চার মাইল দূরে ছিল। ক্রমশঃ নদী অগ্রসর হইয়া সমস্ত শহর গ্রাস করিয়াছে। সেই নোয়াখালী শহর আর নাই।

নোয়াখালীতে দুইটি স্কুল ছিল। একটি রাজকুমার জুবিলী স্কুল ও অপরটি নোয়াখালী জিলা স্কুল। অনেক পরে ভূলুয়া জমিদার অরুনচন্দ্র সিংহের নামে আরও একটি স্কুল স্থাপিত হইয়াছিল। তদ্ভিন্ন একটি বালিকা বিদ্যালয় ও ছাত্রবৃত্তি পর্যন্ত পড়িবার জন্য একটি বঙ্গবিদ্যালয় ছিল। আমাদের শৈশবে ইংরেজী শিক্ষার জন্য জুবিলী স্কুল ও জিলা স্কুল এই দুইটি মাত্র স্কুলই ছিল। জুবিলী স্কুল রায়বাহাদুর রাজকুমার দত্ত কর্তৃক স্থাপিত হয়। জুবিলী স্কুলে প্রথিতযশা স্বর্গীয় অন্নদাচরণ তর্কচূড়ামনি সংস্কৃতের পন্ডিত ছিলেন এবং স্বর্গীয় গিরিজা মোহন ঘোষ উহার হেডমাস্টার ছিলেন।

মস্তিয়ার ঘোনায় শহরের রেল স্টেশন ছিল। সেখান হইতে সাহেবগঞ্জ পর্যন্ত একটি ব্রাঞ্চ লাইন ছিল। সাহেবগঞ্জ স্টেশন হইতে তখন সন্দীপ হাতিয়া প্রভৃতি স্থানে যাইবার স্টীমার বা নৌকা পাওয়া যাইত।